নিউইয়র্ক মহানগর দক্ষিণ বিএনপি জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে মানববন্ধন
https://inews.soumitra.itlab.solutions/
3581
sylhet
মার্কিন মানবাধিকার প্রতিবেদন
প্রকাশিত : ২১ মার্চ ২০২৩ ০৩:০৮ | আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০০৩ ০০:০০
যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক প্রকাশিত ২০২২ সালের মানবাধিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকার পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবহার করে বিরোধী দলগুলোর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করছে। শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে নিয়মিত বাধা দেওয়া হয়ে থাকে।
মার্কিন পররাষ্ট্র বিভাগ ওয়াশিংটন থেকে ২০ মার্চ সোমবার এ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
প্রতিবেদনে বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম, নির্যাতন, কারাগারের পরিস্থিতি, ধরপাকড়, আটক বা গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া ও কারাবন্দীদের সঙ্গে আচরণ, বিচারব্যবস্থা, মানবাধিকারকর্মী–নাগরিক সমাজ ও সরকার সমালোচকদের প্রতি হুমকি–হয়রানি–নির্যাতন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, নাগরিক অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। এ ছাড়া গণমাধ্যমের ওপর বিধিনিষেধ, শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ ও সংগঠন করার অধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা, ‘শরণার্থীদের’ সুরক্ষা, মৌলিক সেবাপ্রাপ্তির সুবিধা, রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের স্বাধীনতা, দুর্নীতি, সরকারি কাজকর্মে স্বচ্ছতার ঘাটতি, বৈষম্য ও সামাজিক নির্যাতন, মানব পাচার, শ্রমিকদের অধিকারসহ নানা বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালের যে নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় বহাল আছে, তা অবাধ ও নিরপেক্ষ ছিল না বলে মনে করেন পর্যবেক্ষকেরা। ব্যালট বাক্স নিজেরাই ভর্তি করা, ভোটার ও প্রতিপক্ষ প্রার্থীর এজেন্টদের হেনস্তা করা ও অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ার জন্য নির্বাচনটি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে আছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২২ সালে সরকার ও তার এজেন্টদের দ্বারা যথেচ্ছ হত্যা, সাজানো মামলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্বারা যথেচ্ছ গ্রেপ্তার, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের ঘটনা অব্যাহত ছিল। কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকার অজুহাতে তার স্বজনদের হেনস্তা করা হয়েছে।
নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ রাষ্ট্রযন্ত্রে জবাবদিহির মারাত্মক অভাব রয়েছে। রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, দলীয়করণ ও দুর্নীতির কারণে বিচারবিভাগের মারাত্মক সংকট চলছে উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, এতে সুবিচার ও ন্যায়বিচার বিঘ্নিত হচ্ছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রয়োগসহ নানা উপায়ে মানুষের মত প্রকাশের ওপর লাগাম দেওয়া হয়েছে। সাংবাদিকদের ওপর নানা উপায়ে সেন্সরশিপ আরোপ ও নাগরিক সমাজের কাজের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ দেওয়া ২০২২ সালেও অব্যাহত ছিল।
তবে মার্কিন মানবাধিকার প্রতিবেদনের কথাগুলো 'রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত' বলে অভিহিত করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। মার্কিন প্রতিবেদন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক দলের অভিযোগকে যুক্তি হিসেবে গ্রহণ করে তার ভিত্তিতে প্রতিবেদন তৈরি করে তাহলে এর যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন থাকে। তাঁর মতে, গত নির্বাচন দেশ-বিদেশে গ্রহণযোগ্য হয়েছে, এটি প্রমাণিত।