https://inews.soumitra.itlab.solutions/

3516

sylhet

বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু যেন একসূত্রে গাঁথা

প্রকাশিত : ১৮ মার্চ ২০২৩ ০৩:০১ | আপডেট : ৩০ নভেম্বর -০০০১ ০০:০০

Ovimotমার্চ মাস। ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস।  স্বাধীনতা যে কোন  জাতির সব চেয়ে বড় অর্জন। বাঙালি  জাতির জন্য এক মহাসত্যি। স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, ও বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আজীবন মানুষের কল্যাণে কাজ করে গেছেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পিছনে তার অবদান ও ত্যাগ ভুলবার নয়। আমাদের উচিত তার জীবনী সম্পর্কে গভীরভাবে জানা। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়েছিল ছাত্রাবস্থা থেকেই।

প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিন ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি আইনসভায় ঘোষণা করেন যে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসাবে গ্রহণ করবে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অবিলম্বে এই ঘোষণার প্রতিবাদ করেন। ২ মার্চ ফজলুল হক মুসলিম হলে ভাষা বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত হলে বঙ্গবন্ধুর পরামর্শে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। ১১ মার্চ হরতাল চলাকালে সচিবালয়ের সামনে থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর ১৯৫২ সালের ২৬শে জানুয়ারি খাজা নাজিমুদ্দিন আবার ঘোষণা করেন,‘উর্দু হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা। এই ঘোষণার প্রেক্ষিতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদকে ২১শে ফেব্রুয়ারিকে রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দিবস হিসেবে পালন এবং বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে আহ্বান জানান।

১৯৭০ সালের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন সত্ত্বেও, পাকিস্তান সরকার বঙ্গবন্ধুর কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার দিকনির্দেশনা হিসেবে ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে তিনি বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা করেন- “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, জয় বাংলা।” ১৮ মিনিটের ভাষণে তিনি অসহযোগ আন্দোলনের আহ্বান জানান। ১৬ সালে, ইউনেস্কো তার ঐতিহাসিক ভাষণটিকে বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকার অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। পরবর্তীতে এই অসহযোগ আন্দোলন আরো তীব্র হয়। এছাড়াও বাঙালি, বাঙালিত্বের নির্যাস যুক্ত হয়েছে  বঙ্গবন্ধুর অমোঘ উচ্চারণ 'ফাঁসির মঞ্চেও যাওয়ার সময়, আমি বলব,আমি বাঙালি  বাংলা আমার দেশ, বাংলা আমার ভাষা।

জয় বাংলা।'  এ উচ্চারণের সঙ্গে তিনি বলিষ্ঠ নেতৃত্বে  স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় বাঙালিকে উজ্জীবিত করে বাঙালিত্বের গৌরবকে আন্তর্জাতিক বিশ্বে প্রতিষ্ঠা করেছেন। বাংলাদেশের  স্বাধীনতা ঘোষণা হয়েছিলো এমন একসময় যখন চারদিকে চলছিলো পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর তান্ডব। ১৯৭০-এর নির্বাচনে জয়ী আওয়ামী লীগের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের অস্বীকৃতি জানায় পাকিস্তানি সামরিক জান্তা।  '৭১ সালের ২৫ মার্চ  রাতে  হানাদাররা শুরু করে পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে বর্বরতম গণহত্যা। জাতির ওই ক্রান্তিলগ্নে ২৬ মার্চের  শুরুতেই বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।  ডাক দেন সশস্ত্র  মুক্তিযুদ্ধের।  বাঙালির হাজার বছরের  ইতিহাসে স্বাধীন জাতি হিসেবে আত্নপ্রকাশকে সবচেয়ে গৌরবজনক ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

স্বাধীনতার এই মাসে আমরা গভীরভাবে স্মরণ করছি, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা ববঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। যাঁর অবিসংবাদিত  নেতৃত্বে আমরা অর্জন করেছি মহান স্বাধীনতা। শ্রদ্ধা জনাই আরও যারা জাতীয়  চার নেতা রয়েছেন, মুক্তিযুদ্ধের ত্রিশ লাখ শহীদ এবং দু'লাখ সম্ভ্রমহারা মা-বোনকে।

বঙ্গবন্ধু এমন একজন নেতা যার অবদান আমরা গভীরভাবে খেয়াল করলে দেখতে পাবো, বাংলাদেশ, ভাষা, রাজনীতি, স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব সবখানে রয়েছে তার নিরলস প্রচেষ্টা। এক কথায় বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু যেন একসূত্রে গাঁথা। গৌরব ও মর্যাদার দিক থেকে  বঙ্গবন্ধু  বাঙালির সামনে মৃত্যুহীন মানুষ।